1. onemediabd@gmail.com : admin2 :
  2. info@www.dhanershis.net : ধানের শীষ :
পটুয়াখালী–৩ আসন: রাজনৈতিক সংগঠন, মনোনয়ন ও সমঝোতার বাস্তবতা! - ধানের শীষ
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ধানের শীষে ভোট দিন: ভাসানটেকে তারেক রহমান ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: প্রধান উপদেষ্টা ১৫ বছর যারা ভোট ডাকাতি করেছে, তাদের সঙ্গে এদের পার্থক্য: তারেক রহমান ভালুকায় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর বিএনপির ওয়ার্ড ভিত্তিক নির্বাচনী পরামর্শ সভা ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির ৭৪ বিদ্রোহী প্রার্থী; বহিষ্কার আরও ৫৯ আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, কাল প্রতীক বরাদ্দ এনসিপির এলিটিজম বনাম তৃণমূল রাজনীতির বাস্তবতা, গণতন্ত্রের নামে কার রাজনীতি? গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করবে ১০ দল: জামায়াত

পটুয়াখালী–৩ আসন: রাজনৈতিক সংগঠন, মনোনয়ন ও সমঝোতার বাস্তবতা!

মোহাম্মদ এহছানুল হক ভূঁইয়া
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬১ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ এহছানুল হক ভূঁইয়া
প্রধান সম্পাদক, ধানের শীষ ডট নেট
www.dhanershis.net

একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ
পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ব্যতিক্রমী বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৪৬ বছরে এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো পূর্ণ মেয়াদি দলীয় সংসদ সদস্য পায়নি। ইতিহাস অনুযায়ী, শহীদ আলহাজ্ব শাহজাহান খান স্বল্প সময়ের জন্য সংসদ সদস্য ছিলেন—যা এই আসনে বিএনপির সীমিত সাফল্যের একমাত্র নজির।
এই দীর্ঘ সময়জুড়ে আসনটি সাধারণভাবে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। তবে গত এক দশকে মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে বিএনপির সাংগঠনিক উপস্থিতি ও তৃণমূল কার্যক্রমের ক্ষেত্রে।
হাসান মামুনের রাজনৈতিক ভূমিকা
হাসান মামুন বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতিক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সময়কাল প্রায় ৩৭ বছর।
পটুয়াখালী–৩ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন—এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনীতিক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে সাধারণভাবে ঐকমত্য রয়েছে।
২০১৮ সালের নির্বাচন ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পটুয়াখালী–৩ আসনে গোলাম মাওলা রনিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। সে সময় হাসান মামুন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন এবং মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন—এটি দলীয় শৃঙ্খলার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
নির্বাচনের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এই এলাকাতেও বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। এই সময় বিএনপির মাঠপর্যায়ের সংগঠন টিকে থাকা মূলত স্থানীয় নেতাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
পরবর্তীতে গোলাম মাওলা রনির বিএনপিতে সক্রিয় উপস্থিতি আর লক্ষ্য করা যায়নি—এটি একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবেই বিবেচিত।
বর্তমান নির্বাচনী সমীকরণ ও আসন সমঝোতা
বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে পটুয়াখালী–৩ আসনে একাধিক রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এই আসনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।
বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, বিএনপির দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং হাসান মামুনের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ ভিন্ন হতে পারত। তবে একই সঙ্গে এটিও বাস্তবতা যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন–সংগ্রামে বিএনপির সঙ্গে কয়েকটি ছোট দল যুগপৎভাবে অংশ নিয়েছে। সেই বাস্তবতার আলোকে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় পর্যায়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
এ ধরনের সমঝোতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয় এবং অতীতেও বহুবার দেখা গেছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত, পদত্যাগ ও বহিষ্কার
হাসান মামুন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে বিএনপির পদ থেকে পদত্যাগ করেন—এটি একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। এরপর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
এখানে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান।
একটি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বহিষ্কার ছিল নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ।
অন্য দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা আরও বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করা যেতে পারত।
এই বিতর্ক এখনো রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই রয়েছে।
সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক পরিবেশ
সাম্প্রতিক সময়ে গলাচিপা–দশমিনা এলাকায় বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণও লক্ষ্য করা গেছে, যা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য সহায়ক নয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন।
গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় মতভেদ স্বাভাবিক হলেও ভাষা ও আচরণ সংযত থাকা নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে—এটি একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক ফলাফল: বিশ্লেষণ, পূর্বাভাস নয়
বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নির্বাচনে টিকে থাকতে পারেন, তবে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে এটিও সত্য যে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান অনেকাংশেই ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পুনর্নির্ধারিত হয়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যার বহু উদাহরণ রয়েছে।
শেষ অংশ,
পটুয়াখালী–৩ আসনের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি বৃহত্তর বাস্তবতাকে তুলে ধরে—যেখানে তৃণমূল সংগঠন, দলীয় সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমঝোতা ও ব্যক্তিগত নেতৃত্ব একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে জড়িত।
এই আসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক দল ও নেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—সংযত আচরণ, স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা।
কারণ শেষ পর্যন্ত নির্বাচন শুধু একটি আসনের নয়—এটি রাজনৈতিক আস্থার পরীক্ষাও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট