1. onemediabd@gmail.com : admin2 :
  2. info@www.dhanershis.net : ধানের শীষ :
জুলাই সংলাপ/ইশতেহার এবং আগামীর বাংলাদেশ - ধানের শীষ
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ধানের শীষে ভোট দিন: ভাসানটেকে তারেক রহমান ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: প্রধান উপদেষ্টা ১৫ বছর যারা ভোট ডাকাতি করেছে, তাদের সঙ্গে এদের পার্থক্য: তারেক রহমান ভালুকায় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর বিএনপির ওয়ার্ড ভিত্তিক নির্বাচনী পরামর্শ সভা ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির ৭৪ বিদ্রোহী প্রার্থী; বহিষ্কার আরও ৫৯ আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, কাল প্রতীক বরাদ্দ এনসিপির এলিটিজম বনাম তৃণমূল রাজনীতির বাস্তবতা, গণতন্ত্রের নামে কার রাজনীতি? গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করবে ১০ দল: জামায়াত

জুলাই সংলাপ/ইশতেহার এবং আগামীর বাংলাদেশ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪১০ বার পড়া হয়েছে

===================

মোহাম্মদ এহসানুল হক ভূঁইয়া

===================

জুলাই সংলাপ বাংলাদেশের শাসনকাঠামোয় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর একটি আশাবাদী ও বিশদ রূপরেখা তুলে ধরে। এ ধরনের পরিবর্তন যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আপনার বিশ্লেষণে কয়েকটি মূল বিষয় উল্লেখযোগ্য:
১. শাসন কাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা:
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, বিচার বিভাগ ও পুলিশের স্বাধীনতা, এবং স্থানীয় সরকারে দলীয়করণ মুক্ত।
১. পরিবর্তনের গতিশীলতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট :
-সংবিধানিক সংস্কার একটি **Iterative Process** (ধারাবাহিক প্রক্রিয়া)। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর উদাহরণ পাওয়া যায় যেমন ফ্রান্স ও তিউনিশিয়া। বাংলাদেশেও এই পরিবর্তনগুলোকে “প্রথম ধাপ” হিসেবে দেখা উচিত। যেমন:
উচ্চকক্ষ গঠনের পর এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে ৫ -৭ বছর লাগতে পারে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কাগজে-কলমে আসলেও, বাস্তবে এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে **Judicial Performance Commission** গঠন প্রয়োজন হতে পারে।
২. Emancipatory Violence-এর দ্বৈততা :
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি নিম্নলিখিতভাবে প্রাসঙ্গিক:
-ইতিবাচক দিক :
1990-এর গণঅভ্যুত্থান বা 2024-এর জুলাই আন্দোলনের পর অস্থিরতা সাময়িক ছিল, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারের পথ প্রশস্ত করেছে।
নেতিবাচক দিক :
স্থানীয় পর্যায়ে “মব জাস্টিস” বা দলীয় কোন্দল যদি Institutionalized Violence এ রূপ নেয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। এজন্য **স্থানীয় শান্তি শৃঙ্খলা কমিটি** গঠন জরুরি।
৩. সংস্কারের চ্যালেঞ্জ: রাজনৈতিক ইকোসিস্টেম :
দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা : উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) নিশ্চিত করতে হলে Electoral Threshold (নির্বাচনী সীমা) নির্ধারণ প্রয়োজন। যেমন: ৫% ভোট পেলেই উচ্চকক্ষে আসন। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে PR পদ্ধতি বাস্তবসম্মত নয়।
৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন :
এটি শুধু আইনগত পরিবর্তন নয়, **সংসদীয় সংস্কৃতি** বদলানোর বিষয়। যেমন: UK-তে হুইপ সিস্টেম থাকলেও backbenchers স্বাধীন ভোট দেয়। এটি অবশ্যই একটি সংসদীয় চর্চার অন্যতম অর্জন হবে।
৪. অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন :
ইন্টেরিম সরকারের “সিকিভাগ সাফল্য” নিয়ে নাগরিক পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন:
সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট : অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের সীমা সংবিধানে লিখিতভাবে উল্লেখ করা (যেমন: শুধু নির্বাচন পরিচালনা নয়, মূল সংস্কারগুলোর প্রস্তুতিও)।
বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক : 1996 বা 2008-এর মতো “মিলিটারি-ব্যাকড নন-পার্টিসান গভর্নমেন্ট” মডেল এড়িয়ে চলা। ১/১১ সরকার দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে চর্চিত হবে।
৫. জনগণের ক্ষমতায়নের অপ্টিমাইজেশন :
গণভোটের বিধান: শুধু সংবিধান সংশোধন নয়, স্থানীয় পর্যায়ে **Participatory Budgeting** (জনগণের অর্থ বরাদ্দে সরাসরি ভোট) চালু করা যেতে পারে। ব্রাজিলের Porto Alegre মডেল উদাহরণ।
স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীক বাতিল : এটি ইতিবাচক, তবে নির্বাচনী যোগ্যতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা,অপরাধ এবং ঋণ খেলাফি রেকর্ডের মানদণ্ড যুক্ত করা প্রয়োজন।
৬. আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সংস্কার :
আদানি চুক্তি বা PEGASUS ক্রয়: শুধু সংসদীয় অনুমোদন নয়, “” সুপ্রিম কোর্টের Judicial Review “”-এর আওতায় আনা যায় কিনা তা বিবেচ্য। ভারতের “” 2G স্পেকট্রাম মামলা “” (2012) এখানে প্রাসঙ্গিক।
পুলিশ কমিশন : UK-এর “”Independent Office for Police Conduct (IOPC)”” মডেল অধিকতর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।
৭. জুলাই আন্দোলনের উত্তরাধিকার রক্ষা :
ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সকল রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেক “সম্মিলিত প্রচেষ্টা” মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের উত্তর অধিকার রক্ষা করতে হবে।
যুবসমাজের সম্পৃক্ততা: আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণরা। তাদেরকে “”Constitutional Literacy Program “”-এর মাধ্যমে সচেতন করতে হবে।
মিডিয়ার দায়িত্ব : সংস্কারগুলোর অগ্রগতি ট্র্যাক করতে “” Reform Tracker “” নামে একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম চালু করা যেতে পারে।
“” সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার কোনটি? “”
এই ১৪টি সংস্কারের মধ্যে “” প্রথম ৩টি “” (প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চকক্ষ গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা) সবচেয়ে জরুরি। কারণ, এগুলো অন্যান্য পরিবর্তনের Enabling Condition তৈরি করবে।
“” বিপ্লব কখনও শেষ হয় না, এটি কেবল পরবর্তী প্রজন্মের হাতে হস্তান্তরিত হয়।”” — বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য। জুলাই আন্দোলনের মূল্য তখনই রক্ষিত হবে, যখন এই সংস্কারগুলো **Institutional Memory**-এ পরিণত হবে।
**”জুলাই”**-কে ব্যর্থ হতে না দেওয়ার জন্য যে সংকল্প প্রকাশ পেয়েছে , তা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। ইতিহাস সাক্ষী, পরিবর্তন ধীরগতিতে হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টা তাকে স্থায়ী করে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশও সেই পথেই এগোবে।
জুলাই সংলাপটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোহাম্মদ এহসানুল হক ভূঁইয়া
প্রধান সম্পাদক, ধানেরশীষ ডটনেট
www.danershis.net

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট