
প্রধান সম্পাদক, ধানের শীষ ডট নেট
www.dhanershis.net
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। একদিকে দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং তাঁকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদে নিয়োগ প্রশ্নে সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ—এই দুই ঘটনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরিত্র, বেসামরিক–সামরিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তা দর্শনের গভীরতর সংকেত বহন করে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। দীর্ঘ নির্বাসনের পর তাঁর দেশে ফেরা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি জাতীয় রাজনীতির ভারসাম্য, নির্বাচনী পরিবেশ এবং ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁকে ‘ভেরি ইম্পর্টেন্ট পারসন’ ঘোষণা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয়—বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিশোধপরায়ণতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।
তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, নিরাপত্তা রাষ্ট্রের এই সক্রিয় ভূমিকা কি কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করবে?
এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদে নিয়োগ ইস্যুতে সেনাবাহিনীর অবস্থানের কারণে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব যে আপত্তি জানিয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নয়, তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর অতীত ভূমিকা সেনাবাহিনী জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করায় এই নিয়োগ কার্যত আটকে যায়।
বিশেষত ‘রোহিঙ্গা মানবিক করিডোর’ প্রস্তাব ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা শুধু নীতিগত মতভেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে এনে দেয়। সেনাপ্রধানের উচ্চারিত “নো ব্লাডি করিডোর” মন্তব্যটি এই উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এর পর সেনাবাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সম্পর্কের অবনতি এবং সেনানিবাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শক্তি-কাঠামোর টানাপোড়েনকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে।
একদিকে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিরাপত্তার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বেসামরিক সিদ্ধান্তে সামরিক ভেটো কার্যকর হচ্ছে—এই দ্বৈত বাস্তবতা প্রশ্ন তোলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতার সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও বেসামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখাও অপরিহার্য।
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো—জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে যেন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সংকুচিত না হয় এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নামে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে না পড়ে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিয়োগ ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা না করতে পারলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অনিশ্চয়তার দিকেই এগোবে।
এই বাস্তবতায় সংযম, প্রজ্ঞা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষাই হতে পারে বাংলাদেশের সামনে একমাত্র টেকসই পথ।
প্রধান সম্পাদক : মোঃ এহছানুল হক ভূঁইয়া, প্রকাশক : মোঃ হাসান আলী রেজা (দোজা)
সম্পাদক : মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী
সম্পাদকীয় কার্যালয়: টেক্সাস, ইউ. এস. এ, ফোন : +𝟏 (𝟗𝟕𝟐) 𝟐𝟎𝟏-𝟖𝟔𝟗𝟒
বাংলাদেশ অফিস : ৩৪০/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪।
বাংলাদেশ যোগাযোগ : +88-01511461475, +88-01911804581