অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে চান ৪৭ দশমিক ৬ ভাগ মানুষ। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসালটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার।
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে আগের রাউন্ডের সঙ্গে তুলনা করে জনমতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করাও ছিল জরিপের লক্ষ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ ভাগ উত্তরদাতা জানান, তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে চান। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তাদের ৯৬ দশমিক ১ ভাগ এবারও ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ ভাগ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন। পেপসের প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে আর দ্বিতীয় রাউন্ডের ফল প্রকাশ করা হয় সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি জানুয়ারির ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয় দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর থেকে। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দ এ ছয় বিষয়ে নেওয়া হয় মতামত।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৪৭ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ ভাগ মনে করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ ভাগ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। ২২ দশমিক ২ ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে, তা তাঁরা বলতে পারছেন না।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এ প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। ২৩ দশমিক ৮ ভাগ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন। পেপসের দ্বিতীয় রাউন্ডের তুলনায় তৃতীয় রাউন্ডে বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এ হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ ভাগ।
আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা বিএনপিতে বেশি : জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। দলটির কার্যক্রমে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনও রয়েছে স্থগিত। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোথায় যাবে, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। পেপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ ভাগ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ ভাগ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ ভাগ এখনো সিদ্ধান্তহীন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যাঁরা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাঁদের মধ্য থেকে জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ ভাগ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ ভাগ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ ভাগ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে। তৃতীয় রাউন্ডে কিছু জামায়াত সমর্থক তাঁদের ভোটের পছন্দ প্রকাশ করেননি জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলনামূলকভাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির চেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে গেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত কারা কত ভাগ ভোট পেতে পারে, এ প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছেন। জামায়াত ও তাদের জোট ৩১ ভাগ ভোট পেতে পারেন বলে মনে করেন। আর ১৩ দশমিক ২ ভাগ উত্তরদাতা তাঁদের পছন্দ প্রকাশ করেননি। গণভোটে ‘হ্যাঁ-এর পক্ষে ৬০ ভাগ : আগামী নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের বিষয়ে পেপস প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরদাতাদের প্রায় ৬০ ভাগ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২ ভাগ জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে তাঁরা জানেন না। গণভোটের বিষয়ে জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে।
প্রধান সম্পাদক : মোঃ এহছানুল হক ভূঁইয়া, প্রকাশক : মোঃ হাসান আলী রেজা (দোজা)
সম্পাদক : মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী
সম্পাদকীয় কার্যালয়: টেক্সাস, ইউ. এস. এ, ফোন : +𝟏 (𝟗𝟕𝟐) 𝟐𝟎𝟏-𝟖𝟔𝟗𝟒
বাংলাদেশ অফিস : ৩৪০/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪।
বাংলাদেশ যোগাযোগ : +88-01511461475, +88-01911804581