
অপরাধ প্রতিবেদক : ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর বৃহত্তর ব্যবসায়িক সেক্টরের ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতনে কপাল খুলেছে কিছু বিতর্কীত ব্যবসায়িদের। যারা বিগত সরকারের সময় লুটপাট করে টাকার কুমির বনে গেছেন আবার সেই একই ব্যাক্তিরা এই অন্তরবর্তীকালিন সরকারে এসেও বহাল তবিয়তে থেকে ব্যবসায়ি মহলকে অশান্ত করে অর্থনীতিকে ধংস করে দেওয়ার চক্রান্তে নেমেছে। এদের মধ্যে আলোচিত বিতর্কীত ব্যবসায়ী বারভিডার সভাপতি সকল দুধের মাছি খ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা হাবিব উল্লাহ ডন । এ নিয়ে বিএনপির ত্যাগী ব্যবসায়ী নেতাদের মাঝে যেমন ক্ষোভ আছে, তেমনি ভীত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ি উদ্যোক্তা ও কর্তা ব্যাক্তিরা ।
কে এই হাবিবুল্লাহ ডন
গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ ডন। এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো আর এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক। ফ্যাসিষ্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাভোগি গাড়ি ব্যবসায়ি এই হাবিবুল্লাহ ডন। আলোচিত পিয়াসা কান্ডেও ছিল তার নাম। তার মালিকানাধীন গুলশানের গাড়ির শোরুম অটো মিউজিয়ামে চোরাই গাড়ি বিক্রি হয় বলে তখন আইনশৃংখলা বাহিনীর দায়িত্বশীলরা জানিয়েছিল এবং মডেল পিয়াসা ঐ চোরাই গাড়ি সিন্ডিকেটের সদস্য। অটো মিউজিয়াম থেকে পিয়াসার সহযোগী মিশুর চুরি করা একটি গাড়িও উদ্ধার করেছিল র্যাব। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ঐ সময় গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোন ও ফেসবুক আইডি তল্লাশি করে প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ির সাথে পিয়াসা, পরীমণি সহ অনেক উঠতি মডেলদের যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। সিআইডি সূত্র আরও জানায়, ফেরারি ব্র্যান্ডের এফ-৪৩০ সিরিয়ালের ৬ হাজার সিসির গাড়ি জব্দ করা হয়েছিল । এ ধরনের উচ্চ সিসির গাড়ি বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ। এ কারণে সেগুলোর বৈধভাবে নিবন্ধনের সুযোগ নেই। অটো মিউজিয়াম থেকে উদ্ধার গাড়িটিতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল, সেটিও ছিল জাল। বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এত কিছুর পরও বহাল তবিয়তে রয়েছে বিতর্কিত এই ব্যবসায়ি । সব আমলেই হাবিবুল্লাহ ডন দুধের মাছি। তিনি এতটাই কৌশলী যে সরকার বদলায়,দেশ বদলায় কিন্তু তিনি বদলান না। এতকিছুর পরও থেকে যান স্বপদে-স্বমহিমায় । বারভিডার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন এতদিন শুনেছি তিনি আওয়ামীলীগের বড় নেতা আর এখন শুনি তিনি বিএনপির এক ব্যাবসায়ী নেতা, বিএনপি চেয়ার পারসন এর উপদেষ্টা এবং সাবেক এফবিসিআইসি র সভাপতির উপদেষ্টা। তার রাহু গ্রাস থেকে বারভিডাকে অবিলম্বে মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি ।
এছাড়াও অনুসন্ধানে জানা যায়,হাইব্রিড গাড়ি তেলের গাড়ির চেয়ে শুল্ক সুবিধা বেশি। আর এই সুবিধা পেয়ে গত পাঁচ বছরে অবাধে আমদানি হচ্ছিল বিলাসবহুল হাইব্রিড গাড়ি। কোনটি হাইব্রিড, কোনটি নন-হাইব্রিড বিষয়টি নিয়ে কাষ্টমসের সাথে জটিলতা তৈরি হয় । এর মধ্যে গত মে’২৪ মাসে অটো মিউজিয়ামের দুটি বিলাসবহুল হাইব্রিড গাড়িকে ‘মিথ্যা ঘোষণা’ দিয়ে আনার জন্য ১৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে। এভাবেই সে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করে থাকে ।
হাবিবুল্লাহ ডন তার ছলাকলা কৌশলের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের অংশ দিয়ে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার কিনে ডিরেক্টর বনে যান এবং এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী বাবা চল্লিশ চোর খ্যাত নজরুল ইসলাম এর ডান হাত হয়ে উঠেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪ সালের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে এক্সিম ব্যাংক কে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে কারাগারে প্রেরন করা হলেও এই ফ্যাসিস্ট হাবিবুল্লাহ ডন বহাল তবিয়তে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থ পাচারের অভিযোগ সহ একাধিক রাজনৈতিক মামলা সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিচারাধীন রয়েছে এবং কারাদন্ডের ঝুকিতে রয়েছেন। সকল প্রকারের বিচারিক নজরদারি এড়িয়ে সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ কে ম্যানেজ করে এতো অভিযোগের পরেও সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি ও নির্বাচিত হয়েছেন। এ থেকেই প্রমানিত হয় বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল উপদেস্টাদের সাথে তার যোগাযোগ কত গভীর ও নিবির।